মেট্রোরেল টিকিটের ওপর ভ্যাট: প্রস্তাবিত বাজেট ও সম্ভাব্য প্রভাব
বাংলাদেশের মেট্রোরেল ব্যবস্থা, যা জনসাধারণের পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে পরিচিত, আগামী জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আরোপের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। বর্তমান বাজেটের প্রস্তাব অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে মেট্রোরেলের টিকিটের ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আরোপিত হবে। এই ভ্যাট আরোপের কারণে টিকিটের মূল্য বাড়বে, যা সাধারণ মানুষের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বর্তমান প্রেক্ষাপট
মেট্রোরেলের টিকিটের ওপর বর্তমানে ভ্যাট মওকুফ রয়েছে, যার সময়সীমা ৩০ জুন পর্যন্ত। অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এই ভ্যাট মওকুফের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে কোনো আলোচনা করেননি। এর ফলে, ১ জুলাই থেকে মেট্রোরেলের টিকিটে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপিত হবে। এনবিআর (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) এই ভ্যাট মওকুফের সুবিধা আর অব্যাহত রাখতে আগ্রহী নয়।
ভ্যাট আরোপের পটভূমি
২০২৩ সালের শুরু থেকেই মেট্রোরেলের টিকিটের ওপর ভ্যাট আরোপের উদ্যোগ নেয় এনবিআর। ২০২৩ সালের ২২ জানুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার শওকত আলী ভ্যাট আরোপের আহ্বান জানিয়ে ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডকে চিঠি দেন। পরবর্তীতে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এনবিআরের একাধিক বৈঠক হয়। তবে এনবিআর শেষ পর্যন্ত ভ্যাট আরোপ থেকে পিছিয়ে আসে। ২০২৩ সালের মে মাসে এনবিআর প্রজ্ঞাপন জারি করে জানায়, ২০২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত মেট্রোরেলের টিকিটের ওপর ভ্যাট মওকুফ থাকবে।
ভ্যাট আরোপের প্রভাব
মেট্রোরেলের টিকিটের ওপর ভ্যাট আরোপ হলে এর ব্যবহারকারীদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়বে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পুনর্বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, পৃথিবীর কোন দেশে মেট্রোরেলে ১৫ শতাংশ ভ্যাট নেই। ভারতের মেট্রোরেলেও ভ্যাট নেই। তাহলে বাংলাদেশে কেন এই ভ্যাট আরোপ করা হবে?
বাজেটের প্রস্তাবনা
অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে মেট্রোরেলের টিকিটে ভ্যাট মওকুফের বিষয়ে কিছু উল্লেখ করেননি। প্রস্তাবিত বাজেট পাস হবে ৩০ জুন। এই সময়ের মধ্যে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত না হলে ১ জুলাই থেকে এটি কার্যকর হবে। বাজেটের আকার ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৯০০ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের (২০২৩-২৪) চেয়ে ৩৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। সরকারের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা।
ব্যক্তিগত মতামত
আমি মোঃ আর ডাব্লিউ ফাহিম চৌধুরী, একজন নিয়মিত মেট্রোরেল ব্যবহারকারী। আমি প্রতিদিন মেট্রোরেল ব্যবহার করে আমার ইউনিভার্সিটি যাই। মেট্রোরেল আমাদের জীবনে অনেক সহজতা এনেছে, কিন্তু ভ্যাট আরোপের ফলে টিকিটের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সাধারণ জনগণের মতো আমিও কিছুটা সমস্যার সম্মুখীন হব। ছাত্র হিসেবে আমার মত অনেকেই হয়তো এই বাড়তি খরচ বহন করতে সক্ষম হবে না। তাই আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই, প্রস্তাবিত বাজেটে ভ্যাট মওকুফের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করা হোক এবং মেট্রোরেলের টিকিটের মূল্য বৃদ্ধি না করা হোক। এটি সাধারণ মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় এবং আমি আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে।
এই প্রস্তাবিত ভ্যাটের বিষয়ে সবারই জানা দরকার এবং আশা করা যায় যে, জনগণের স্বার্থ রক্ষা করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। মেট্রোরেল ব্যবহারে আমাদের সবারই যাতায়াত সহজ হবে, এবং ভ্যাট মওকুফের মাধ্যমে এটি আরও সহজ এবং সুলভ হয়ে থাকবে।




